Monday, 1 October 2018

Sabyasachi Bhowmik



             স   ব্য   সা   চী             ভৌ     মি    ক




              মহাকাশে আমরা কি , শুধুই জৈব রোবট ?


“ মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল মাঝে , আমি মানব একাকী ভ্রমি বিস্ময়ে ... ! ”
যুগ যুগান্তর ধরে মহাকাশ আমাদের কাছে চির রহস্যাবৃত ।  সত্যিই তো , কতটুকুই বা আমরা জানি ? মানবসভ্যতা, সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই  যেমন সকালের রৌদ্রোদ্দীপ্ত গগন কিংবা রাতের তারাভরা আকাশের দিকে প্রচন্ড কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে থাকতো , আজকের উন্নত হোমো সেপিয়েন্স ও টেলিস্কোপ চোঁখে আকাশের পানে চেয়ে থাকে, অবাক বিষ্ময়ে ! এ কৌতুহলের যেন শেষ নেই । এ কৌতুহল অসীম... অনন্ত  ।।



বিজ্ঞান যেদিন থেকে আমাদের ভাবতে শিখিয়েছে, সৃষ্টির উৎস সন্ধানও সেদিন থেকেই শুরু । সময় যতো এগিয়েছে, উন্নত থেকে উন্নততর হয়েছে সন্ধানের কৌশল , অত্যাধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যার সাহায্যে মানুষ পাড়ি দিয়েছে মহাকাশে, একবার নয়, বার বার । উন্নত ইন্টারনেট ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন আমরা নিজেদের স্মার্টফোন বা কম্পিউটার স্ক্রিনে ঘরে বসেই দেখতে পারি পৃথিবীর বাইরে  এই মুহুর্তে ঠিক কি ঘটে চলেছে । তাতেও কিন্তু  বিন্দুমাত্র কৌতূহল কমেনি আমাদের, বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে ।। 
‘ রোবট ’ – বিজ্ঞানের দেওয়া শ্রেষ্ঠতম উপহারের মধ্যে অন্যতম ।  ‘ রোবট ’ শব্দটি কানে এলেই মনে রোমাঞ্চ জাগে , হাজারো প্রশ্নেরা এসে ভিড় করে । মনে হয় , কল্পবিজ্ঞান ও বাস্তবের মধ্যে যোগসূত্র রক্ষাকারী যন্ত্রটির নাম বুঝি ‘ রোবট ’ ।।

 বিজ্ঞানীরা প্রতিদিন নিত্য নতুন কার্যক্ষমতা সম্পন্ন রোবট তৈরী করে চলেছেন, শুধুমাত্র আমাদের জীবন মসৃণতর করে তোলার জন্য । 
জৈব রোবট – একটি তাত্ত্বিক ধারণা
এবারে আসা যাক জৈব রোবটের কথায় । জৈব রোবট শব্দটি এখন পর্যন্ত অভিধানে জায়গা করে নিতে না পারলেও, এটি একটি ‘থিয়োরেটিক্যাল কনসেপ্ট’ বা তাত্ত্বিক ধারণা বিশেষ । নাম থেকে একথা সহজেই অনুমেয় যে, জৈব রোবট হচ্ছে এমন এক প্রকার রোবট যেটি সম্পূর্ণ জৈব উপাদানে তৈরী !
কথাটি শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি !

একটি রোবট, যার সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা সি পি ইউ হচ্ছে  ব্রেন নামধারী জৈব পদার্থ বিশেষ ! যে রোবটে পাঁচ রকমের ইনপুট ডিভাইস লাগানো আছে ।
রোবটটিকে দৃশ্যক্ষমতা বা ভিজ্যুয়ালাইজিং পাওয়ার দেবার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে উন্নতমানের জৈবিক লেন্স, সেই লেন্সটিকে নিরাপদে ও সুষ্ঠূভাবে কার্যক্ষম করে তোলার জন্য তৈরী হয়েছে ‘চোঁখ’ নামক উন্নত জৈবিক ব্যবস্থাপনা , যার
সাহায্যে রোবট টি নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে দৃশ্যক্ষমতা লাভ করতে পারে ।।
শব্দের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠার জন্য রোবটটিতে লাগানো হয়েছে উন্নত ধরণের জৈব ‘ডিজিটাল টু অ্যানালগ  কনভার্টার ’ যা বহিরাগত শব্দকে (ডিজিটাল) তার ধরন অনুযায়ী বোধক্ষম করে তুলতে ম্যালিয়াস, ইন্‌কাস ও স্টেফিজ নামক তিন প্রকার জৈব অস্থির মাধ্যমে ইয়ার ড্রাম নামক এক প্রকার জৈব পর্দায় পর্যাপ্ত কম্পন সৃষ্টির মাধ্যমে বিদ্যুৎ তরঙ্গে ( অ্যানালগ ) পরিণত করে ব্রেন বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় । আবার শব্দের আউটপুট ডিভাইস হিসেবে লাগানো আছে মুখ এবং ভোকাল কর্ড বা স্বরথলী নামক ব্যবস্থাপনা , যেটি আদতে একটি  জৈবিক ‘ অ্যানালগ টু ডিজিটাল কনভার্টার ’ ! এই ব্যবস্থাপনায় ব্রেন থেকে বিদ্যুৎ তরঙ্গ রূপে আসা শব্দ ভোকাল কর্ডে প্রয়োজনীয় কম্পন সৃষ্টি করে এবং সেই কম্পন অনুযায়ী ঠোঁটের কম্পন সংঘটিত করে । ঠোঁটের কম্পনের মাধ্যমে সেই অ্যানালগ শব্দ আবার ডিজিটাল হয়ে বাইরে বেরিয়ে যায় । অর্থাৎ, যেভাবে আমরা কথা বলি আর কি ! 

যে কোন প্রকার গন্ধের প্রতি সংবেদনশীল থাকার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে নাক নামক জৈব ব্যবস্থাপনা যার সাহায্যে বিভিন্ন রকমের গন্ধ আহরনের পাশাপাশি বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পৌছে যায় দেহের অভ্যন্তরে । এই নাসারন্ধ্রের অভ্যন্তরে লাগানো রয়েছে এমন এক সিস্টেম যেটি স্মেল ডিটেক্টর এবং স্মেল ডিফারেন্সিয়েটর এর কাজ করে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য বা ডেটা পাঠিয়ে দেয় ব্রেনের কাছে ।

স্বাদের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল থাকার জন্য আছে জিহ্বা নামক জৈব ম্যাকানিজম, যার সাহায্যে কোন কিছুর স্বাদ আহরন করে ব্রেন ইনপুট গ্রহন করতে পারে এবং পরিবেশের পরিবর্তন ( মূলত ভৌত পরিবর্তন ) এর  থেকে ইনপুট নেওয়ার জন্য আছে চামড়া বা ত্বক যা এক দিকে রোবটটিকে পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল রাখে অন্যদিকে দেহ কে বাইরের বিভিন্ন প্রভাব থেকে রক্ষা ও করে ।।

এ তো গেল সংক্ষেপে পাঁচ প্রকার ইনপুট ডিভাইসের কথা ! এছাড়াও পুরো রোবট টিকে প্রয়োজনীয় গঠন বা শেপ প্রদান করার জন্য আছে হাড় নামক জৈব পদার্থ বিশেষ যা গোটা দেহ টাকে আঁকড়ে ধরে রাখে । দেহের ভারসাম্য রক্ষায় আছে ম্যাকানিক্যাল বিম টেকনোলজির মতোই আছে মেরুদন্ড নামক ব্যবস্থাপনা যার সাহায্যে পুরো শরীরটার ভারসাম্য বজায় থাকে । ইত্যাদি ।
এছাড়াও অন্যান্য অনেক রকমের জৈব পদার্থের সমন্বয়ে সৃষ্ট এই জৈব রোবট, যাকে আমরা মানুষ বলে চিনি !

এখন প্রশ্ন হলো, এই জৈব রোবটের আবিস্কর্তা কে ?...  কার মস্তিষ্ক প্রসুত এই জৈব রোবট ?
প্রশ্নটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই হয়তো প্রায় সবাই মুচকি হেসে উত্তর দেবেন, 
“ কে আবার ? ... উপরওয়ালা , যাকে কেউ ভগবান , কেউ ঈশ্বর, কেউ আল্লাহ্‌ , কেউ গড, তো কেউ বা ওয়াহে গুরু বলে সম্বোধন করেন ... । তাঁর ইচ্ছেতেই তো সব ! ”
আমি ব্যক্তিগতভাবে ভগবানে বিশ্বাসী হলেও, এই মুহূর্তে এ নিয়ে কোন তর্কে  যেতে চাইছি না, তাই,  প্রশ্নটা আপাতত তোলাই থাক ।। আমরা বরং আলোচনার দিকে আরও কিছুটা এগিয়ে যাই । 
আমরা কি আদৌ পৃথিবীর জীব ?
এ আবার কেমনধারা প্রশ্ন বাপু ?  অনেকগুলো ভুঁরু একসাথে কুঁচকে গেছে, ...  জানি  !
লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মানব অভিযোজনের গল্প তো কারও অজানা নয় ! জঙ্গল নিবাসী আদিম মানব কিভাবে আজকের এ সি ঘরে থাকা মানুষে রূপান্তরিত হলো তার ব্যাখ্যা তো  বিজ্ঞান আমাদের অনেক আগেই  দিয়েছে , আর বিজ্ঞানের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাহায্য করেছে ইতিহাস, যা বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতা ও তাদের সূত্রপাত এবং পরিণতির ধারাবাহিক খবর বিবর্তনের প্রমাণস্বরূপ তুলে ধরেছে আমাদের কাছে ! 
তাহলে ... ? 

বেশ... আদিম মানব থেকে আমাদের বিবর্তনের গল্প না হয় সবারই জানা ।
তবে, প্রশ্নটা যদি একটু অন্যভাবে করা যায়... ?  যদি জিজ্ঞেস করা যায়,  দুই হাত, দুই পা এবং উন্নত মস্তিষ্ক সম্পন্ন এই আদিম মানবেরাই বা এলো কোথা থেকে  ?
এ প্রশ্নেরও উত্তর আছে,  জানি । 
উত্তরটা হলো, গরিলা বা শিম্পাঞ্জি জাতীয় প্রাণীদের থেকেই আমাদের পূর্বসূরীদের সৃষ্টি !
উত্তরটা একেবারেই ভুল না হলেও, সম্পূর্নরূপে ঠিকও নয় ! অন্ততঃ , আধুনিক বিজ্ঞান ও গবেষণালব্ধ ফলাফল তো এমনটাই দাবী করে  !! 
মানুষ প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর জীব নয় ।  আমরা পৃথিবীর পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উন্নত জীব সৃষ্টির পরীক্ষায়  উত্তীর্ণ এক বিশেষ ধরণের জীব মাত্র  ! 

কথাটা একটু কঠিন শোনালেও বাস্তবে এটাই সত্যি !  পৃথিবীর বাইরের কোন গ্রহের উন্নততর প্রজাতির কোন জীবের সাথে পৃথিবীর বানর গোত্রের গরিলা বা শিম্পাঞ্জি জাতীয় জীবের  জৈবিক অঙ্কুরণের ফল হলাম আমরা ! 
এবারে  প্রশ্ন হলো, এই জৈবিক অঙ্কুরণ ব্যাপারটা ঘটলো কবে ? ... কিভাবে  ?  আর ঘটালোই বা কে  ?

প্রথমটার উত্তর হিসেবে বলা যায়, আজ থেকে প্রায় দু লক্ষ বছর আগে । যখন পৃথিবীতে প্রথম মানব প্রজাতির জীবের উদ্ভব হয়েছিলো , তখন...  কিংবা তারও কিছুকাল আগে ।
অঙ্কুরণের মূল উদ্দেশ্য হলো বংশবৃদ্ধি এবং নুতন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের সৃষ্টি । সমগোত্রীয় জীবের পাশাপাশি দুটো ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যেও প্রজননের মাধ্যমে নুতন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের সৃষ্টি হয়  ( যেভাবে বর্তমানে ক্রস ব্রিডিং করে নুতন প্রজাতির জীব তৈরী হয় , অনেকটা সেরকম ) । প্রাথমিক পর্যায়ে সেই প্রজনন হয় পরীক্ষাগারে । তারপর উৎপন্ন সেই নুতন প্রজাতিটিকে নিয়ে শুরু হয় পরীক্ষা নিরীক্ষা ।  নুতন প্রজাতির জীবটি আদৌ পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে  মানিয়ে নিতে পারছে কি না  , পরিবেশের সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারছে কি না , এমনকি, বাহ্যিক পরিবেশে সে সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে নিজের বংশ বিস্তার করতে পারছে কিনা এগুলোই হচ্ছে পর্যবেক্ষনের মূল বিষয়বস্তু ! ভিন্ন ভিন্ন জীবের সাথে প্রজননের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন নুতন প্রজাতির জীবকে নিয়ে গবেষণা হয়েছিলো মনুষ্য সৃষ্টির অনেক আগেই !

একটু গুছিয়ে বলতে গেলে, ভিন গ্রহের উন্নত প্রজাতির জীবেরা নিজেদের বংশ বিস্তারের তাগিদে কিংবা নিজেদের অস্তিত্ত্ব রক্ষায় জীবন ধারণের উপযোগি গ্রহের সন্ধানে অবতীর্ণ হয় । এভাবে সন্ধানকালে তারা পৃথিবী বা আর্থ নামক গ্রহের সন্ধান পায় যেখানে প্রকৃতি তাঁর মতো করে প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়েছিলো আরও আগে থেকেই ! পৃথিবীতে নিজেদের বংশ বিস্তার করতে হলে পৃথিবীর প্রকৃতিতে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া চাই । সেক্ষেত্রে উপায় একটাই । পৃথিবীতে বসবাসরত প্রানীকুলের সাথে গবেষণাগারে নিজেদের প্রজনন ঘটানো এবং তার ফলে সৃষ্ট জীবকে নিয়ে পর্যবেক্ষন ।।  সে পথেই হাঁটলো ভিনগ্রহীরা । শুরু হলো একের পর এক নুতন প্রজাতির জীবের সৃষ্টি । এমন সব জীব যাদের মধ্যে সেই ভিনগ্রহীদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি পৃথিবীর জীবদের ও নানান বৈশিষ্ট্য মিলিত ছিল, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পৃথিবীর পরিবেশে জীবনধারণ ! তারপর সেইসব নুতন প্রজাতির জীবদের বাইরে ছেড়ে দিয়ে তাদের উপর শুরু হলো পর্যবেক্ষন । তারা এই পৃথিবীতে আদৌ বংশ বিস্তার ও জীবন ধারণে সম্পূর্ণ সক্ষম কিনা তার পরীক্ষা !! এভাবে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কুরণের মধ্যে দেখা গেলো গরিলা বা শিম্পাঞ্জি শ্রেণীর প্রাণীদের সঙ্গে প্রজননের ফলে সৃষ্ট নুতন প্রজাতির জীবের মস্তিষ্ক ওই বহিরাগত ভিনগ্রহীদের মস্তিষ্কের সঙ্গে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ! অর্থাৎ অন্য অঙ্কুরিত জীবের তুলনায়, এই প্রজাতিটি সর্বাধিক পরিমাণে উন্নত ও উর্বর মস্তিষ্কের ব্যবহারে সক্ষম । হয়তো তাই, এই গরিলা জাতীয় প্রাণীর সাথে প্রজননে সৃষ্ট অঙ্কুর নির্বাচিত হলো এই পৃথিবীতে সেই ভিন গ্রহীদের উত্তরসূরী হিসেবে !! বিবর্তন তো অনেক পরের কথা !
নাহ্‌ , মনগড়া গল্প বলছি না মোটেও ।

 এই সিদ্ধন্তের পেছনে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণও আছে বিজ্ঞানীদের কাছে । এমনকি, একটু বিশদে ইন্টারনেট সার্ফ করলেই এর অধিকাংশ তথ্য পাওয়া যায় ।।
যেমন , প্রাচীনকালের বিভিন্ন গুহাচিত্র ও পুঁথিপত্র থেকে সেকালে ঘোড়া মানব এবং মৎস্য মানব ( মৎস্য কন্যা ) এর উপস্থিতির কথা জানা যায় ! এই মৎস্যকন্যা এবং ঘোড়া মানব মূলত মাছ এবং ঘোড়ার সঙ্গে  ভিনগ্রহীদের প্রজননে সৃষ্ট নুতন প্রজাতি বিশেষ  !! যাদের মধ্যে ভিনগ্রহীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য আমাদের তুলনায় অনেকটাই কম ।।


প্রমাণস্বরূপ ১৯৩৩ সালে আবিষ্কৃত , সাহারা মরুভুমির অন্তর্গত লিবিয়ান মরুভুমির গিল্ফ কেবির মালভূমিতে প্রাপ্ত প্রায় সাত হাজার বছরের পুরোনো গুহাচিত্রের কথা উল্লেখ করা যায় , যেখানে সবথেকে পরিষ্কারভাবে  প্রাচীনকালে মৎস্যকন্যা বা মৎস্য মানবের অস্তিত্বের হদিশ মেলে  ! শুধু তাই নয়, আরেক ধরণের মানব জাতির ও হদিশ মেলে যাদের সাধারণ ভাষায় সাঁতারু মানব বলা যায় ! অর্থাৎ, যারা জলের মধ্য দিয়েই চলাফেরা করতো ।। 
ঠিক তেমনি, ইজিপ্টের বিভিন্ন গুহাচিত্রে ঘোড়ামানব এর অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে  ।
সংকরায়ন ব্যাপারটি যে শুধু ঘোড়া কিংবা মাছের সাথেই হয়েছিলো, এমনটা কিন্তু নয় । কোন কোন প্রাণীর সাথে হয়েছিলো এই পরীক্ষামূলক প্রজনন তার হিসেব হয়তো কেউই দিতে পারবে না , তবে এটুকু বলা যায়, ঘোড়া কিংবা মাছ ইত্যাদি প্রাণীর সঙ্গে সংকরায়নের ফলে সৃষ্ট নুতন প্রজাতির জীব গুলো পৃথিবীর পরিবেশে বেশ মানিয়ে নিতে পেরেছিলো, তাই তাদের অস্তিত্বের হদিশ মেলে,  যদিও পরবর্তীকালে জীবন রক্ষার সংগ্রামে জয়ী হতে না পারার দরুণ এই প্রজাতি গুলো পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় ।।

আমরা মানুষেরা পৃথিবীর জীব নই, এর পেছনে সবথেকে বড় গবেষণালব্ধ প্রমাণ হলো, পৃথিবীর কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সির সাথে আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি না মেলা ! হ্যাঁ, এটা সত্য যে পৃথিবীর ফ্রিকোয়েন্সির, বা আরও পরিস্কার করে বলতে গেলে, পৃথিবীতে প্রকৃতির যে নিয়ম চলে, যে নিয়মে প্রকৃতির পরিবর্তনগুলো সাধিত হয়, আমরা সে নিয়ম কে ধরতে পারি না , এবং মজার ব্যাপার হলো, শুধুমাত্র আমরাই, মানে, মানুষেরাই কেবল এই ফ্রিকোয়েন্সি ম্যাচ করতে পারেনা ।

 মানুষ ছাড়া  পৃথিবীর আর সকল জীবই কিন্তু কম বেশী ম্যাচ করাতে পারে সেই ফ্রিকোয়েন্সি ! উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যে কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তন, দুর্যোগ , বন্যা, ক্ষরা, ভূমিকম্প, ঝড়, বৃষ্টি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যদি প্রায় সব ক্ষেত্রেই, একমাত্র মানুষ ছাড়া বাকী সব জীবই কিন্তু অল্প বিস্তর আগাম পূর্বাভাস পেয়ে থাকে ! কেবলমাত্র মানুষ সেটা পায় না । অতীত ঘাঁটলে দেখা যায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস পেতে জীব জন্তুদের ভিন্ন ভিন্ন গতিবিধি ও আচার আচরণের প্রতি প্রাধান্য দিয়েছেন ।। যে কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের পূর্বেই বন্য জীব জন্তুরা আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে যায় , কারণ তারা পৃথিবীর ফ্রিকোয়েন্সির সাথে নিজেদের ফ্রিকোয়েন্সি ম্যাচ করাতে পারে ! আমরা এটাকে জীব জন্তুদের ষষ্ঠেন্দ্রিয় বা সিক্সথ্‌ সেন্স বলে পাশ কাটিয়ে গেলেও বাস্তবে কিন্তু এটাই সত্য !

এর পর যে বিষয়টি সর্বাগ্রে সামনে আসে সেটি হলো, আমাদের মস্তিস্কের গঠন এবং আকার !  বর্তমানে এটি সর্বজন স্বীকৃত যে মানুষের মস্তিষ্কের গঠন পৃথিবীর অন্য সব প্রাণীদের থেকে ভিন্ন ! আবার, মনুষ্য ব্যতীত অন্যসব প্রাণীদের মস্তিষ্কের গঠন অনেকটাই সদৃশ ! মানব মস্তিষ্ক অন্যদের তুলনায় একেবারেই আলাদা । এবার কথা বলি আকার নিয়ে । বহু গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা গেছে যে, আমাদের মস্তিষ্কের আকার, পৃথিবীর অন্যসব প্রাণীদের মস্তিষ্কের আকার অপেক্ষা, এমনকি যাদের সঙ্গে আমাদের সর্বাধিক মিল, সেই গরিলা বা শিম্পাঞ্জী জাতীয় প্রাণীদের থেকেও আকারে অনেকটাই বড় এবং অনেক বেশী উন্নত !  হয়তো ঠিক এই কারণেই মানব মস্তিস্ক এমন সব কাজ করতে সক্ষম যেগুলো অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে এক প্রকার অসম্ভব । যেমন, উদ্ভাবনী ক্ষমতা বা সৃজনশৈলী  , পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা , চিন্তাশীলতা ইত্যাদি । যদিও আধুনিক বিজ্ঞান বিভিন্ন বন্য প্রাণীদের মধ্যেও এই গুণাবলী জাগিয়ে তুলতে সচেষ্ট হচ্ছে, কিন্তু সেগুলোও ব্যবহারিক দিক দিয়ে , স্বতঃস্ফূর্তভাবে নয় মোটেও ।।

এছাড়াও রয়েছে, উন্নত দেহের গঠন, উন্নত নার্ভাস কমিউনিকেশন সিস্টেম, উন্নত সংবেদনশীলতা ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা পৃথিবীবাসী অন্য প্রাণীদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ।।


সার্চ ফর দ্য অরিজিন

এতটুকু আলোচনার পর , এই বিষয়ের উপর আলোকপাত এখন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক । স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে মনে, তবে আমাদের পূর্বসূরী করা  ? তাঁরা কোথা থেকে এসেছিলো ? কিভাবেই বা এসেছিলো ? দেখতে কেমন ছিলো কিংবা , কোন ভাষায় কথা বলতো  ? 
ধীরে, পাঠক   .. ধীরে  ।। সব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে না পারলেও, একেবারে নিরাশ করবো বলে তো আসিনি ।।
সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং আমাদের সৃষ্টি করেছেন । তাঁর ইচ্ছেতেই সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড এক ও অদ্বিতীয় ছন্দে বিরাজমান । একথা তো অনস্বীকার্য । কিন্তু , আজ এটা আমাদের বিষয় নয়, এ নিয়ে বসবো অন্য একদিন, কথা দিচ্ছি ।
আমরা যদি প্রকৃতই আমাদের পূর্বসূরীদের খোঁজে নামি, তাহলে দেখবো, আমরা মোটেও একা নই ! বরং, আমাদের অনেক আগে থেকেই এ বিষয়ে খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের তাবড় তাবড় মহাকাশ বিজ্ঞানীরা, আছে  SETI ( Search for Extra Terrestrial Intelligence ) নামে একটি সংস্থা , আছে নাসা ! আমরা আপাতত তাদের কিছু গবেষণালব্ধ ফলাফল নিয়ে আলোচনা করি ।

আধুনিক গবেষণা অনুযায়ী আমাদের পূর্বসূরী হলো কোন এক ভিন গ্রহের অত্যন্ত উন্নত প্রজাতির জীব, যাদের সাধারণ ভাবে আমরা অ্যালিয়েন বলে অভিহিত করি । তাঁরা তাঁদের নিরন্তর গবেষণার ফলে মানব প্রজাতির জীব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে । হতে পারে এই মানব প্রজাতির মধ্যে পৃথিবীর বানর গোত্রের জীবের বৈশিষ্ট্য ও মিলিত আছে, কিন্তু তা হলেও, মস্তিষ্কের গঠন ও ইন্দ্রিয়ের উপস্থিতি এবং বিন্যাস একথা স্বীকার করে যে আমাদের পূর্বসূরী রা পৃথিবীর জীব ছিলো না । তাঁরা এসেছিলো বাইরের কোন এক গ্রহ থেকে । হয়তো বা শত সহস্র আলোকবর্ষ দূরের কোন নক্ষত্রমণ্ডল থেকে ! তাঁরা এসেছিলো পৃথিবীতে বসতি স্থাপনে কিংবা কলোনাইজেশনে ! কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারণে পৃথিবীর আবহাওয়া তাঁদের জীবনধারণের অনুকূল হয়নি , যার ফলস্বরূপ ,তাঁরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজেদের মতো গুণ সম্পন্ন বংশধর সৃষ্টির কাজে মনোনিবেশ করে । শুধু তাই নয়, বারবার, বিভিন্ন ভাবে অনুন্নত মানব সভ্যতাকে উন্নত হতে সাহায্য ও করেছে তাঁরা !!

শুনতে অবিশ্বাস্য লাগছে  ?
মানব সভ্যতার আশ্চর্যতম নিদর্শন গিজার পিরামিড তার সাক্ষ্য বহন করে ! আধুনিক বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক গন আজ একথা নিজেরাই স্বীকার করেন যে গিজার পিরামিড মানব সৃষ্ট নয় ! গিজার পিরামিডের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আমাদেরকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে !! চলুন দেখে নিই , কি সেই বৈশিষ্ট্য ?
গিজার পিরামিডের ভৌগোলিক অবস্থান হলো, ২৯.৯৭৯২৪৫৮° উত্তর  ,  আবার শূন্য মাধ্যমে আলোর গতিবেগ ২৯৯,৭৯২,৪৫৮  মিটার / সেকেন্ড  !!  এটা মোটেও কাকতলীয় নয় ।

 তার কারণ, গিজার পিরামিড তৈরী হয়েছিল আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর পূর্বে, যেখানে আলোর গতিবেগ আবিষ্কৃত হয় ১৯৫০ সালে ! এই তথ্য মুহূর্তের মধ্যে একটি প্রশ্ন উস্কে দেয়, ‘তবে কি টাইম ট্র্যাভেল সম্ভব ’ ?  এ প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয় কারণ বিষয়টি এখন গবেষণাধীন । টাইম ট্র্যাভেল এর প্রশ্ন মাথায় আসে কারণ, তবে কি অত্যধিক উন্নত অ্যালিয়েনরা ভবিষ্যৎ থেকে ফিরে এসেছিলো এই পৃথিবীতে  ? তৈরী করে গেছিলো এই স্থাপত্য ? 

গিজার পিরামিডের ভৌগোলিক অবস্থানের ক্ষেত্রে আরও একটি আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, পিরামিডের জ্যামিতিক নকশার দুই পাশ থেকে দুটি কাল্পনিক কর্ণ ( ডায়াগোনাল ) অঙ্কন করে দুদিকে প্রশস্ত করলে তা নীল নদের একেবারে উৎসস্থলে অবস্থিত বদ্বীপ বা ডেল্টা র দুই পাশে দুটি কর্ণ হিসেবে গিয়ে মিলিত হয় ।

 আধুনিক বিজ্ঞান বলে , এতো উচ্চ পর্যায়ের নিখুঁত গাণিতিক হিসেব করা, তৎকালীন মিশর বাসীদের কাছে ছিলো অসম্ভব । তার কারণ, পিরামিডের অবস্থান থেকে নীল নদের উৎস অবধি দৃশ্যমান হওয়ার জন্য প্রয়োজন ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচু তে উড়ে যাওয়া ! অনেকটা , আধুনিক জেট প্লেন গুলো যতটুকু উচ্চতায় উড়ে যায়, ততটুকু ! কিন্তু প্রাচীন মিশর বাসী দের এরোপ্লেন সম্পর্কে কোন ধারণাই ছিলো না । তার উপর , পিরামিডের অবস্থান পৃথিবীর চৌম্বকীয় উত্তর মেরুর হিসেব অনুযায়ী এতোটাই নিখুঁত যে ভিন গ্রহীদের আগমন সম্পর্কে কোন সন্দেহই থাকেনা আর ! প্রাচীন মিশরে চুম্বকের ব্যবহার ছিলো না । ছিলো না এত নিখুঁত ভাবে হিসেব করার কোন ব্যবস্থাপনা !! 


গিজার পিরামিড সম্পর্কে আরও একটু বিষয়, যা গবেষক দের অত্যন্ত ভাবিয়ে তুলেছিলো , সেটি হলো, পিরামিড তৈরীতে ব্যবহৃত প্রায় এক হাজার টন গ্রানাইট পাথর ! অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে সেই পাথর গুলোকে কাটা হয়েছিলো , কিন্তু ওভাবে কাটার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির আবিষ্কার হয় এর প্রায় তিন সহস্র বছর পরে !!  তাছাড়া, গিজার পিরামিড তৈরীতে যে সমস্ত পাথর ব্যবহার করা হয়েছিলো সেগুলো অত্যন্ত ভারী এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা একেবারেই অসম্ভব ! আর সবথেকে মজার ব্যাপার , এতো ভারী পাথর উঠিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ড্রজার বা হেভিওয়েট মেশিন আজ অবধি পৃথিবীতে তৈরী হয়নি  !! 

গিজার পিরামিড সম্পর্কে এতো আলোচনার পর, একটি কথা না বললেই নয় । খুব সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী গ্রেট পিরামিড ও অন্যান্য পিরামিড গুলোকে লেজার কসমিক রে স্ক্যান করা হয় । সেই স্ক্যানিং থেকে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য !! এতোদিন অবধি ইতিহাস বইগুলো থেকে আমরা জানতাম যে মিশরের পিরামিড গুলো তৈরী করা হয়েছিল প্রায় আড়াই হাজার খ্রীস্ট পূর্বাব্দে, অর্থাৎ, আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে , কিন্তু অতি সাম্প্রতিক গবেষণা বলে, পিরামিড গুলো প্রায় সাড়ে বারো হাজার বছরের পুরনো !! যখন মানব সভ্যতার সূত্রপাতই ঘটেনি !!  এছাড়াও প্রতিটি পিরামিডের ঠিক মাঝ বরাবর একেবারে গভীরের দিকে রয়েছে প্রায় তিরিশ মিটার চওড়া একটি শূন্যস্থান বা শূন্য কক্ষ !! এই শূন্যস্থান গুলো আসলে কি , সে নিয়ে জোর গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা ।।

এতো গেলো গিজার পিরামিডের কথা !! আধুনিক বিজ্ঞান ও গবেষক গণ মনে করেন, শুধু গিজার পিরামিড নয় আরও অনেক জায়গায় বহির্জাগতিক প্রাণীদের সৃষ্টির নিদর্শন চোঁখে পড়ে ।

যেমন, The Sacsayhuamán , The Nasca Lines, The Stonehenge , The Teotihuacan,  The Easter Island  ইত্যাদি ।
যদিও বিষয়গুলো এখনও গবেষণাধীন, তবুও প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিছু কিছু অসামঞ্জস্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে । এই বিষয় গুলো নিয়ে ইন্টারনেট মিডিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই নিত্য নুতন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে , যা জন্ম দিচ্ছে নুতন নুতন তত্ত্ব ও ধারণার ।।
এবারে প্রশ্ন হলো, এইসব স্থাপত্য স্থাপনের উদ্দেশ্য কি ?  উত্তর টা , হয়তো বা , আমাদের উন্নত থেকে উন্নততর হয়ে উঠার রাস্তায় সম্ভাব্য কিছু সূত্র বা ক্লু  প্রদান ! যা অতি উন্নত ভিনগ্রহীরা আগে থেকেই জানতো,  তাই আমাদের সাহায্যার্থে দিয়ে রেখেছে সেইসব প্রয়োজনীয় তথ্য ! হয়তো, আমরা এখনও সেই উন্নতির স্তরে পৌঁছুতেই পারিনি বলেই, তাঁদের দেওয়া সেইসব ক্লু এর কোন মানে বের করে উঠতে পারিনি আজও  !!  কে জানে, হয়তো সময় একদিন বলে দেবে সব ।।

আমাদের আলোচনায় আধ্যাত্মবাদ বিষয়বস্তু না হলেও, পাঠক মনস্তত্ব অনুযায়ী, একটি প্রশ্নের অবতারণা না করলেই নয় । ‘..তবে  মহাপুরুষ, মনীষী রা আসলে কারা ? ’
উত্তর:  প্রকৃতি অসীম শক্তির উৎসস্থল, একথা অনস্বীকার্য । প্রকৃতির প্রতিটি খাঁজে লুকিয়ে আছে কতো না অজানা শক্তির রহস্য ! বিজ্ঞান আমাদের আট রকমের শক্তির কথা বললেও, প্রকৃতি আরও এক প্রকার শক্তির সন্ধান দেয় । এই শক্তির নাম মহাজাগতিক শক্তি বা কজমিক এনার্জি ! এই শক্তি প্রকৃতিতেই লুক্কায়িত থাকে ।

 নিরলস সাধনা ও কঠিন অধ্যবসায় এর দরুণ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাঁদের  দৈহিক ও মানসিক ফ্রিকোয়েন্সি কে পৃথিবীর ফ্রিকোয়েন্সির সাথে ম্যাচ করাতে পারেন, যার ফলস্বরূপ তাঁরা সন্ধান পান সেই বিশ্ব শক্তির যা মহাজাগতিক শক্তি বলেও পরিচিত । প্রকৃতি প্রদত্ত পঞ্চইন্দ্রিয় কে যদি নিজের বশে আনা যায় , তবে ইচ্ছের অধীনস্থ হয় পারিপার্শ্বিক পরিবেশ  !! 



এর বেশী বলা হয়তো উচিত নয়, কারণ আমাদের আলোচ্য বিষয় এটি নয় ।।   

পরিশেষে…

মহাবিশ্বে আমরা কি শুধুই জৈব রোবট ? নাকি কোন এক উন্নত প্রজাতির বহির্জাগতিক জীবের অস্তিত্ব রক্ষার্থে গবেষণাগারে সৃষ্ট এক বিশেষ প্রজাতির জীব মাত্র – এ প্রশ্নের প্রকৃত উত্তর পেতে গেলে হয়তো আরও কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে আমাদের । হয়তো আরও নুতন ও চাঞ্চল্যকর সব তথ্যের মুখোমুখি হতে হবে অদূর ভবিষ্যতে  !! হয়তো সেই ভিনগ্রহী অ্যালিয়েনরা শুধুমাত্র পৃথিবীতেই সংকরায়ন করে থেমে থাকেনি । 

অস্তিত্বের রক্ষায় তাঁরা হয়তো খুঁজে বের করেছিলো জীবন ধারণের উপযোগী আরোও অনেক গ্রহ , তারপর সেখানেও হয়তো চালিয়েছিল নানাবিধ গবেষণা । সৃষ্টি হয়েছিলো আরও নুতন প্রজাতির জীবের ।  আমাদের বিজ্ঞান এখনও পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু পৃথিবীর বাইরেও যে প্রাণের অস্তিত্ব আছে তা আজ প্রায় সকল বিজ্ঞানীরাই এক বাক্যে স্বীকার করে নেন । মাঝে মাঝে আকাশে দেখা মেলে আন আইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট বা ইউ এফ ও -র । তাদের উপস্হিতি মুহূর্তে স্তব্ধ ( পড়ুন  জ্যাম ) করে দেয় আমাদের সব কমিউনিকেশন সিস্টেম ! যা প্রমাণ করে তারা আমাদের থেকে অনেকটাই উন্নত প্রযুক্তির অধিকারী ।  হয়তো সেই ইউ এফ ওর ভিনগ্রহীরাও আমাদেরই সমগোত্রীয়  !! হয়তো তাই তারা আমাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহে আগ্রহী !! 

অনেকগুলো সম্ভাবনাময় চিন্তাধারা একসাথে এসে মস্তিষ্কে জমাট বাঁধে । আমাদের প্রতিদিনের চেনা পৃথিবীটা যেন মুহূর্তেই অচেনা হয়ে উঠে ! আরও রহস্যাবৃতা হয় ! হাজারো প্রশ্নের ভিড়ে উৎসুক মন হারিয়ে যায় অসীম শূন্যে , যেখানে বিজ্ঞান ও আধ্যাত্ম্যবাদ সুদৃঢ় আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়, ইতিহাসকে সাক্ষী করে রেখে ! 


সৃষ্টির আদি অন্ত অন্বেষণে মানব সভ্যতা হয়তো একদিন উন্মোচন করতে পারবে প্রকৃতির সব রহস্য ! পৌঁছে যাবে উন্নতির চরম শিখরে । মানব থেকে হয়ে উঠবে মহামানব !! সময় সেদিনও এভাবেই বয়ে যাবে .. নীরবে, সমান্তরালে নুতন ইতিহাস সৃষ্টির অভিপ্রায়ে... !!



_______________________________________________